গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ এ ০৯:৫১ AM
কন্টেন্ট: পাতা
একাডেমির সৃষ্টি থেকে বর্তমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা
১। ভূমিকা (Introduction): স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কারীগরি সহায়তায় ১৯৭৩ সালে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণসহ বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের নিমিত্ত আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ফিশিং জাহাজ পরিচালনায় প্রশিক্ষিত নেভিগেটর, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ও ফিশ প্রসেসিং টেকনোলজিষ্ট তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার অত্র একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।
কালক্রমে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি আজ বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে একইসাথে দেশি-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ফিশিং ট্রলারের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ক্যাডেটদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ একাডেমি হতে প্রশিক্ষিত ক্যাডেটগণ সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ আহরণের মাধ্যমে একদিকে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির আমিষের চাহিদা পূরণ করছে, অন্যদিকে দেশি-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত থেকে দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
২। একাডেমি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস (Historical Background):
ক। ১৯৭৩ সনের ০১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার রাশিয়ান সরকারের বিশেষজ্ঞ জনবল ও কারিগরী সহযোগিতায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের পরিচালনাধীনে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে মৎস্য বন্দর এলাকায় ‘মেরিন ফিশারিজ একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা করে।
খ। ১৯৮৩ সালে এ একাডেমি পরিচালনার দায়িত্ব নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রামস্থ মেরিন একাডেমির অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
গ। ১৯৮৬ সালে একাডেমিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তথা মেরিন একাডেমি থেকে প্রত্যাহার করতঃ পুনরায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রাণাধীনে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
ঘ। ১৯৮৮ সালে এ একাডেমির পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশান থেকে প্রত্যাহার করতঃ সরাসরি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যস্ত করা হয়।
ঙ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৩০ জুন ১৯৯৩ পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ একাডেমি পরিচালিত হয়।
চ। ০১ জুলাই ১৯৯৩ সাল থেকে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন রাজস্ব বাজেটভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে।
৩। একাডেমির কর্মপরিধি (Scope): একাডেমির মূল কর্মপরিধি হলো:
ক। গভীর সমুদ্রগামী মৎস্য আহরণকারী জাহাজ/ট্রলার ও সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজ চালনা, জাহাজের ইঞ্জিন অপারেশন, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্প, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মাননিয়ন্ত্রণ শিল্প ইত্যাদি সেক্টরের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ার উদ্দেশ্যে প্রি-সী ট্রেনিংসহ স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা।
খ। সমুদ্রে মৌলিক নিরাপত্তা বিষয়সহ অন্যান্য আবশ্যকীয় বিষয়ে নৌ-কর্মকর্তা ও নাবিকদের এনসিলিয়ারি ট্রেনিং প্রদান করা।
গ। সমুদ্রগামী মৎস্য আহরণকারী জাহাজ/ট্রলার এবং সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজ এ নিয়োজিত অফিসারদের সার্টিফিকেট অব কম্পিটেন্সী পরীক্ষার প্রস্তুতির নিমিত্তে রিফ্রেশার্স কোর্স পরিচালনা করা ।
৪। একাডেমির প্রশিক্ষণ (Training Curriculum): মেরিন ফিশারিজ একাডেমি পরিচালিত ৪ (চার) বছর মেয়াদী বিএসসি (অনার্স) কোর্সসমূহ বর্তমানে নিম্নে উল্লেখিত ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।
একাডেমি | On Board | একাডেমি | মন্তব্য |
প্রথম ০২ বছরের প্রি-সী ট্রেনিং কোর্স (যা সমুদ্রগামী জাহাজে On Board এর জন্য আবশ্যক)। | ০১ বছরের জন্য সমুদ্রগামী জাহাজে On Board ট্রেনিং (যা কোর্সের ৩য় বর্ষ হিসেবে গণ্য)। | On Board ট্রেনিং শেষে ৪র্থ বর্ষে একাডেমিতে যোগদানকরতঃ প্রশিক্ষণ ও চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ০৪ বছর মেয়াদী বিএসসি অনার্স কোর্স সম্পন্নকরণ। | ২০১৮ সাল হতে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণিত বিএসসি অনার্স ডিগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। |
৫। পাশকৃত ক্যাডেটদের পরিসংখ্যান (Statistics of Ex-Cadets): অত্র একাডেমি হতে এ যাবৎ ৯৪জন নারী (নটিক্যাল সায়েন্স ৬ জন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ৩২ জন ও মেরিন ফিশারিজ ৫৬ জন) ক্যাডেটসহ সর্বমোট প্রায় ২৩৫৩ জন ক্যাডেট প্রি-সী ট্রেনিং সম্পন্ন করে সনদপ্রাপ্ত হয়েছে।১৯৯৯-২০০০ সন হতে স্নাতক কোর্সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি লাভ করায় এ সময় হতে প্রি-সী ট্রেনিং সনদ এর পাশাপাশি বিএসসি (পাস) নটিক্যাল, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেরিন ফিশারিজ ডিগ্রী প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ হতে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এর অধিভুক্তিতে ০৪ বছর মেয়াদী অনার্স ডিগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। অদ্যাবধি নটিক্যাল সায়েন্স থেকে ০৭ জন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারি বিভাগ হতে ১২ জন এবং মেরিন ফিশারিজ বিভাগে হতে ৫৩ জনসহ সর্বমোট ৭২ শিক্ষার্থী ০৪ বছর মেয়াদী বিএসসি অনার্স কোর্স সম্পন্ন করেছে।
৬। একাডেমির বর্তমান ক্যাডেট সংখ্যা (Statistics of Existing Cadets):
ব্যাচ | প্রশিক্ষণ কোর্সের শিরোনাম | মোট | |||||
বিএসসি (অনার্স) ইন নটিক্যাল স্টাডিজ | বিএসসি ইন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং | বিএসসি (অনার্স) ইন মেরিন ফিশারিজ | |||||
পুরুষ | মহিলা | পুরুষ | মহিলা | পুরুষ | মহিলা | ||
৪৫তম (২য় বর্ষ/১ম সেমিস্টার) | ৩৪ | ০৫ | ৩৫ | ০৩ | ২১ | ০৮ | ১০৬ |
৪৬তম (১ম বর্ষ/১ম সেমিস্টার) | ২০ | ০০ | ২৩ | ০৩ | ২৫ | ০৫ | ৭৩ |
৭। একাডেমির বর্তমান জনবলের সংখ্যা (Manpower):
মঞ্জুরীকৃত পদ সংখ্যা | কর্মরত জবলের সংখ্যা | শূন্য পদের সংখ্যা | শূন্যপদ পূরণে গৃহীত উদ্যোগ | |||
১ম শ্রেণি | ১৬ | ১ম শ্রেণি | ১৩ (নিয়মিত-৯ প্রেষণে-৪) | ১ম শ্রেণি | ৩ | বি.পি.এস.সি-তে নিয়োগের কাজ চলমান আছে। |
২য় শ্রেণি | ৩ | ২য় শ্রেণি | ২ (নিয়মিত-২) | ২য় শ্রেণি | ১ | পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কার্যক্রম চলমান |
৩য় শ্রেণি | ২০ | ৩য় শ্রেণি | ১৯ | ৩য় শ্রেণি | ১ | পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে |
৪র্থ শ্রেণি | ২৪ | ৪র্থ শ্রেণি | ২১ | ৪র্থ শ্রেণি | ৩ | পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে |
আউটসোর্সিং | ৩৯ | আউটসোর্সিং | ৩৯ | - | ০ | - |
ভিজিটিং লেকচারার | ১২২ | - | - |
| ||
নবসৃষ্ট পদ | একাডেমির রাজস্বখাতে ২৫ (পঁচিশ) ক্যাটাগরিতে ৩১টি পদ সৃজনের পৃষ্ঠাঙ্কন হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ণের কাজ চলমান রয়েছে। | |||||
৮। একাডেমির প্রশিক্ষণ ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা (Steering Committees for Training and Official Activities): নিম্নবর্ণিত কমিটিসমূহের মাধ্যমে বর্তমানে একাডেমির প্রশিক্ষণ ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকেঃ
ক। মেরিন ফিশারিজ একাডেমি, চট্টগ্রাম-এর গভর্নিং বডি (কপি সংযুক্ত-১)
খ। মেরিন ফিশারিজ একাডেমি, চট্টগ্রাম-এর একাডেমিক কাউন্সিল (কপি সংযুক্ত-২)
গ। ক্যাডেটদের শৃঙ্খলা বিধি (Code of Conduct for MFA Cadets) (কপি সংযুক্ত-৩)
ঘ। বোর্ড অব স্টাডিজ (কপি সংযুক্ত-৪)
৯। একাডেমির উন্নয়ন পরিকল্পনা (Development Plan): প্রশিক্ষণ সুবিধা যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে মেরিন ফিশারিজ একাডেমিতে ফায়ার ফাইটিং সিমুলেটর’ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও “মেরিন ও ব্রীজ সিমুলেটর” স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে একাডেমির মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন কার্যক্রম স্থাপত্য অধিদপ্তরে প্রক্রিয়াধীন আছে।
১০। জাতীয় অর্থনীতিতে একাডেমির ভূমিকা (Role of the Academy in National Economy): অত্র একাডেমি হতে পাশকৃত ২৩৫৩ জন ক্যাডেটের মধ্যেঅধিকাংশ ক্যাডেট দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত থেকে দেশির জন্য প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে এবং বিশ্ব নৌবাণিজ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্যাডেট গভীর সমুদ্রগামী ফিশিং জাহাজ/ট্রলারে কর্মরত থেকে মৎস্য আহরণের মাধ্যমে দেশের আপামর জনসাধারণের প্রাণিজ আমিষের চাহিতা পূরণে অবদান রাখছে। একই সাথে ক্যাডেটগণ জাহাজ নির্মাণ/মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান, মৎস্য ও চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাসহ সরকারি/ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অংশ নিয়ে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
১১। উপসংহার (Conclusion): মেরিন ফিশারিজ একাডেমি সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ, সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নৌ বাণিজ্যিক সেক্টরের জন্য প্রশিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি উৎপাদনকারী দেশের অন্যতম পেশাভিত্তিক মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও বিশ্বামানের এ একাডেমির প্রতিষ্ঠায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক সহযোগীতায় এ একাডেমি কাজ করছে। এছাড়াও, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এর সহায়ক ভূমিকা অনস্বীকার্য। সকলের সর্বাত্মক সহযোগীতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ একাডেমি উত্তরোত্তর এগিয়ে যাবে এবং “নতুন বাংলাদেশ” বিনির্মাণে কাঙ্খিত ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।